আড়ালে
Marjan khan fiona
ছোটো থেকেই ইনফিরিয়র কমপ্লেক্সসিটির শিকার অবন্তী। ফ্যামিলিতে ছ'ভাইবোনের চার নম্বরে পা। হেসে খেলে বেড়ে উঠার প্রতিপক্ষে সে বেড়ে উঠেছে বারান্দায় আধকোনো হয়ে, একগুচ্ছ ছোটো কথার গল্পের ভীড়ে। সামনের মাঠটায় বিকেলে খুব ভীর হত, যেন ছোট্ট একটা মেলা বসে যেত। অবন্তী কখনো এসব হাতছানির প্রতি অডাসিটি দেখায় নি, মোটা গ্লাসে ভর করে শুধু গল্পের ভারটা পড়ে যেত। বারান্দার বাইরে বল আর ভিতড়ে বল কেউ ঠাট্টা পাত্র কম করেনি তাকে। কিন্তু অবন্তী অনড়।
ক'দিন ধরে অবন্তীর মনটা কিছু খারাপ, তার গল্পের বইগুলো পুরনো হতে চলল। এক গল্প আর কতবার- কথাটা ভাবতে ভাবতে অবন্তী পা বাড়ায়।
সিড়ির ধারে রুমটায় অবন্তী থাকে। পুরনো বাড়িটায় আট'ন জনেও কেমন জমে উঠে না।
সবাই যার যার মত কাজে, আর ছোটোরা খেলায়। মাঝে মাঝে নিশাত আর বিন্তির
দু,একটা চিতকার যদি শোনা যায়। আচ্ছা বলে নেই নিশাত আর বিন্তি অবন্তীর ছোটো
দু ভাইবোন। অবন্তী খুব গম্ভীর, এই লকডাউনে তার লাইব্রেরি যাওয়া হচ্ছে না।
বাবাকে বই আনার কথা বলাই ভার। " গল্পের বই?? এসব আজগুবি পড়া দিয়ে কি হবে,
যার কোনো সত্য ভিত্তি নেই।"
মনটা আরো খারাপ হয়, খুব ফ্রুটলেস লাগছে। হালকা লিকারের চা নিয়ে খোলা বারান্দায় দাড়ায়, রাত তখন বারোটা বাজতে দেরি। চায়ের চুমুকে হঠাৎ অবন্তীর চোখে কিছু একটা চকচক করতে দেখা যায়, অবন্তী কিছুটা ভয় পেয়ে যায়। সামনে এগিয়ে যেতেই অনেকটা ভেবাচেকা খেয়ে গেল। "আরে এতো ' তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' লেখক- আলাউদ্দিন আল আজাদ। " অবাক হবে বল্লেও ভুল হবে, কি করবে অবন্তী কিছুই বুঝতে পারলো না, তাও বইটা হাতে নেয়, চিরকুট দেখাচ্ছে-"নিশ্চয় ভালো লাগবে"। এই মূহুর্তে অবন্তীর ধ্যান জুড়ে শুধু এই বইটা। কার বই, কে দিল, বালাইষাট। সারারাত জুড়ে বইটা শেষ করে সে। চিরকুটের অপসিটে "ধন্যবাদ" লিখে আজকের মত বই পড়া শেষ করে। ফযর শেষ করে ঘুমিয়ে পড়ে।
ঘুম ভাংগে অবন্তীর, বেলা দশটা গড়ায়। ওদিকে একদমই খেয়াল নেই, দৌড়ে চলে যায়
বারান্দায় "নাহ, বইটা নেই, সাথে চিরকুটটাও"।এই করে আরো ৭/৮ দিন কেটে যায়।
অবন্তী আরো আরোও বই পেতে শুরু করে। সময়টা ঠিক একই, একই জায়গায়। 'লোটা
কম্বল' লেখক- সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়, পার্থিব’ ও 'দূরবীন' লেখক- শীর্ষেন্দু
মুখোপাধ্যায়, মেমসাহেব' লেখক- নিমাই ভট্টাচার্য আরো কিছু।
আজ অবন্তীর নাস্তার টেবিলে কিছু লোকজন আসে-" কেউ কি আছেন কথা বলার মত, আসলে আমরা জার্নালিস্ট, যদি আমাদের কিছুটা সময় দিতেন।" অবন্তীর বাবা এগিরে যায়"জ্বী, বলুন, কোনো সমস্যা?" -"না, না। আসলে আমরা জানতে পেরেছি এই বাড়িটির আদি মানিকানা মৃত মনসুর রাহমান। তিনি একজন সমাজসেবক হিসেবেই বেশি পরিচিত ছিলেন।" অবন্তীর বাবা মাথা দুলিয়ে সায় দেয়। "উনার খুব ইচ্ছে ছিল এই বাড়িটি তিনি লাইব্রেরিতে রুপান্তর করে দিবেন, কিন্তু কিছুটা উইলের বিপাকে পড়ে আপনাদের হাতে বিক্রি হয়, আমরা কি কিছু সময় বাড়িটি ঘুরে দেখতে পারি?" "কেন নয়!"- অবন্তীর বাবা। অবন্তী সব কথা পাশ থেকেই শুনে যায়, কিছু বলেনা।
আজ রাত থেকে বই আর আসছে না। অবন্তী স্পিকলেস হয়ে দাড়িয়ে থাকে, সেই বারান্দায়, সেই জায়গায়, সেই সময়।
Marjan Khan Fiona
Chandina, Cumilla
Chattagram Medical College


0 Comments
Thanks for your comment.